নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকেও নেপালের ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক পানির স্রোতে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বহুতল ভবন, যানবাহন ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সামনে এসেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপে আটকে যায়। পরে সেই পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত ভোতেকোশি নদীতে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা পাননি।
বন্যায় অন্তত ৯টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৯টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় পানির ভয়াবহ স্রোতের এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রতিবেশী ভারত ও চীনও এগিয়ে এসেছে।
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দুই কর্মী ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষের তিন মাসের প্রয়োজন মেটানোর মতো চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাবু ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা রয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর