নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। ভেসে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ শতশত পরিকাঠামো। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষায়িত কারিগরি খাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
এদিকে ভয়াবহ এ দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন খাতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বরিম ওয়াগলে। তিনি বলেন, এটি প্রাথমিক প্রাক্কলন মাত্র। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি ও অবকাঠামোগত বিনাশের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু রয়েছে।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কা অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে জানিয়েছে, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান নেপালি বাহিনী নিজেই অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। একই কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধার, ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্রিজের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল করা, মৃতদেহ শনাক্তকরণ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় মৃতদেহ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রগুলোতে কাঠমান্ডুর বিদেশী সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত দক্ষতা ও কারিগরি অভিজ্ঞতা নেই এমন সব ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য আমরা ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছি।
নেপালের উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল দুর্যোগস্থল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) দূরে সমতল ভূমির চিতওয়ান ও নবলপরাসী এলাকা থেকে অনেক মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
খানাল বলেন, এসব এলাকা থেকে আরো মরদেহ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানকার হাসপাতালগুলো লাশে ভরে গেছে এবং মরদেহ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রিজ বা হিমঘরের অভাব দেখা দিয়েছে।
নেপালি কর্মকর্তারা জানান, এ বন্যায় স্কুল ভবন, হাসপাতাল, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, রাস্তাঘাট, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা আরো উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন কাজের জন্য নেপালের বিদেশী সহায়তার প্রয়োজন হবে।
খানাল জানান, বেশ কিছু মানুষ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর টানেলের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে খবর পাওয়া গেছে। টানেল সম্পর্কিত প্রযুক্তিতে নেপাল নতুন হওয়ায় টানেলভিত্তিক উদ্ধার অভিযানের জন্য দেশটির আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর/একে