দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলিদের কাছে থাইল্যান্ড জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। কিন্তু ইসরায়েলসহ ৬০টি দেশের নাগরিকদের জন্য থাইল্যান্ডে ভিসামুক্ত থাকার সুবিধা কমিয়ে অর্ধেক অর্থাৎ ৩০ দিন করা হয়েছে। নতুন নিয়মে স্থলসীমান্ত দিয়ে ভিসামুক্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদেশিরা বছরে সর্বোচ্চ দুইবার থাইল্যান্ডে ঢুকতে পারবেন। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে স্থলপথে থাইল্যান্ডে যাতায়াতও সীমিত হবে।
ৎএদিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ইসরায়েলিদের নিয়ে থাইল্যান্ডেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ইসরায়েলি পর্যটকের আচরণ থাই সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের প্রতি অসম্মানজনক। খাবারের বিল পরিশোধ না করা, টুকটুক চালকদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোসহ বিভিন্ন অভিযোগও উঠেছে।
গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ফুকেটের পাতং সৈকতে শত শত মানুষ ‘সেভ ফুকেট’ নামে বিক্ষোভ করেন। আয়োজকেরা বলেছেন, তাদের কর্মসূচি কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার মানুষের বিরুদ্ধে নয়; সব ধরনের পর্যটকের অনুপযুক্ত আচরণের বিরোধিতা করাই তাদের লক্ষ্য। তবে, থাই ও হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে ইসরায়েলি পর্যটক ও ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনা বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি পর্যটকদের নিয়ে থাইল্যান্ডে এমন অসন্তোষের পেছনে গাজা যুদ্ধের প্রভাবও আলোচনায় এসেছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের ঘিরে সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে থাইল্যান্ডের বিক্ষোভের আয়োজকেরা তাঁদের কর্মসূচিকে সরাসরি গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদ হিসেবে ঘোষণা করেননি।
থাইল্যান্ডে ইসরায়েলি পর্যটক ও প্রবাসীদের আচরণ নিয়ে এর আগেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি দূতাবাস নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছিল, তাদের কিছু আচরণ ইসরায়েলি পর্যটকদের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে থাইল্যান্ডে ইসরায়েলিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।
দেশবার্তা/এমআর