ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে এক রিকশা গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক উপপরিদর্শককে (এসআই) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলতাফ হোসেন (৫৮) এসবির ঢাকা মার্কেট ইন্টেলিজেন্স শাখায় উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬) হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় তাঁদের একটি ছোট পোশাক তৈরির কারখানা রয়েছে। ঘটনার সময় কারখানার পাশে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে যান আলতাফ। সেখানে রিকশা ও একটি প্রাইভেটকারের সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে গাড়িতে থাকা কয়েকজন গ্যারেজ মালিক কালামকে মারধর করছিলেন।
বিষয়টি দেখে আলতাফ এগিয়ে গিয়ে তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁর ওপরও চড়াও হন। তিনি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তাঁকে মারধর করা হয়। পরে আলতাফ দৌড়ে নিজের কারখানায় গিয়ে ছেলে আরিফুলকে বিষয়টি জানান।
পরিবারের ভাষ্য, কিছুক্ষণ পর ওই প্রাইভেটকারটি কারখানার সামনে এসে থামে। গাড়ি থেকে কয়েকজন যুবক নেমে আরও লোকজনকে সেখানে জড়ো করেন। এরপর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল কারখানায় ঢুকে আলতাফ ও তাঁর ছেলে আরিফুলকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, আলতাফ হোসেন ওই এলাকায় বসবাস করতেন। রাতে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফেরার সময় রাস্তার পাশে একটি রিকশা গ্যারেজের সামনে একদল যুবক গ্যারেজ মালিককে মারধর করছিল। বিষয়টি দেখে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাঁকেও তাঁর ছেলেকেও মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিহত আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন।
দেশবার্তা/এমআর