ধূমপান বা তামাক সেবনে প্রজনন ক্ষমতা বা সন্তান ধারণের ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
মঙ্গলবার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ী নারীদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরাসরি ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও প্রজনন ক্ষমতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ফলে কেউ নিজে ধূমপান না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হলে তাঁর প্রজনন স্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে। তবে ধূমপান ত্যাগ করলে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপান ছেড়ে দেওয়া নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ কম।
ডব্লিউএইচওর ট্যোবাকো ফ্রি ইনিশিয়েটিভের চিকিৎসা কর্মকর্তা কার্স্টিন শট বলেন, ‘যারা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সবার উদ্দেশে আমাদের বার্তা হলো- ধূমপান ত্যাগ করুন, আপনার প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতি করুন।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো প্রতিরক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার না করে টানা ১২ মাস বা তার বেশি সময় নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কের পরও গর্ভধারণে ব্যর্থ হওয়াকে ‘বন্ধ্যাত্ব’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি ৬ জন মানুষের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় ভুগছেন।
বহু দশক ধরে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানায়, তামাক সেবন নারীদের বন্ধ্যাত্বের পাশাপাশি পুরুষদের যৌন সক্ষমতাও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়, বন্ধ্যাত্ব কেবল নারীদের একক কোনো সমস্যা নয়। প্রায় ৬০ হাজার পুরুষের ওপর পরিচালিত ৪৪টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধূমপানের কারণে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় নানা জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে ধূমপায়ী পুরুষদের ক্ষেত্রে উত্থানজনিত সমস্যা বা ইরেকটাইল ডিসফাংশন, দ্রুত বীর্যপাতসহ প্রজননসংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
এমনকি বন্ধ্যাত্বের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির সাফল্যকেও ধূমপান ব্যাহত করে। ২১টি গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ধূমপানের ফলে আইভিএফের (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) মতো কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবিত শিশু জন্মদান ও গর্ভধারণের হার ব্যাপকভাবে কমে যায়।
উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধূমপান আইভিএফ বা সমমানের চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনে।
হুক্কা সেবনের ক্ষেত্রেও পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। তবে ই-সিগারেট (ভেপ), ধোঁয়াহীন তামাক এবং অন্যান্য নতুন পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
সংস্থাটির মতে, অন্যান্য তামাক ও নিকোটিনযুক্ত পণ্যও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, যা নিশ্চিত হতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন।
এমন পরিস্থিতিতে যেসব দম্পতি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের তামাক সেবনের প্রজননজনিত ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের সঙ্গে পরামর্শ করার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
পাশাপাশি যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আসা তামাকসেবীদের ধূমপান ছাড়ার জন্য নিয়মিত ও তথ্যপ্রমাণভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দেশবার্তা/একে