গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মত হওয়া সব শর্ত ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বোর্ড অব পিস। সংস্থাটির গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, শান্তির পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন জরুরি।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
ম্লাদেনভ বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি শান্তি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পশ্চিম তীরে শতাধিক ফাঁড়ি ভাঙার নির্দেশ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরে অননুমোদিত ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সামরিক ফাঁড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া গড়ে ওঠা প্রায় ১০০টি ফাঁড়ির বিরুদ্ধে এ নির্দেশ কার্যকর হতে পারে।
গাজায় হামলা অব্যাহত
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। দেইর আল-বালাহ এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে কামানের গোলায় সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। গাজা সিটিতে ড্রোন হামলায় নয় বছরের এক শিশু ও তার বাবা নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৩৪৪ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে পুরো যুদ্ধে ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি যুবক নিহত
পশ্চিম তীরের নাবলুস গভর্নরেটের উসারিন গ্রামের কাছে একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে ১৯ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ছুরিকাঘাতে আহত হন। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হন।
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে জার্মানির দাবি
এদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নিকারাগুয়ার করা মামলার শুনানিতে জার্মানি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়েছিল।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরও জার্মানি ইসরায়েলে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর