দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভারত-বাংলাদেশের যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালুর বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে দুই দেশ। ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠকে মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন রেলপথ চালুর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি রেলপথ চালুর প্রস্তাব দিতে পারে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন, বৈঠকে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দুই দেশের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় নয় মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হলেও যাত্রীবাহী ট্রেন এখনো চালু হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশ বৈঠকে ঐকমত্যে পৌঁছালে আগামী মাসের শুরুতেই তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এদিকে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বর্তমানে যমুনা সেতু হয়ে চলাচল করা ট্রেনটি নতুন নির্মিত পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
কোন ট্রেন কোন রুটে
মৈত্রী এক্সপ্রেস: ঢাকা-কলকাতা
বন্ধন এক্সপ্রেস: খুলনা-কলকাতা
মিতালী এক্সপ্রেস: ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি
২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল প্রথমে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
অন্যদিকে, মিতালী এক্সপ্রেস সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে। ট্রেনটি এরপর আর ভারতে ফিরে যায়নি বলে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে পিটিআই।
দুই দেশের রেলওয়ে কর্মকর্তাদের আসন্ন বৈঠকের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে অগ্রগতি হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
দেশবার্তা/এমআর