রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সরাসরি সড়ক সেতু চালু হয়েছে। তুমেন নদীর ওপর নির্মিত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হবে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি যাতায়াত, পর্যটন ও বাণিজ্যের কাজে ব্যবহার করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বের ‘নতুন প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থে সং একে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ চলাচল করতে পারবেন।
রুশ সরকার জানিয়েছে, শুরুতে সেতুটি দিয়ে শুধু পণ্য পরিবহন করা হবে। পরে চলতি বছরের শেষ দিকে যাত্রী চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য
মিশুস্তিন বলেন, নতুন সেতুটি রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘শক্তিশালী গতি’ তৈরি করবে। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বিমান ও রেল যোগাযোগ আগে থেকেই রয়েছে। তবে এতদিন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ ব্যবস্থায় রেলসেতুর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে গাড়ি পারাপারের অস্থায়ী ব্যবস্থা ব্যবহার করা হতো।
চলতি বছরের মে মাসে স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে সেতুটির পাশাপাশি নতুন কয়েকটি সংযোগ সড়ক, সীমান্ত চৌকি, সহায়ক অবকাঠামো ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দেখা যায়।
অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
নতুন সড়ক যোগাযোগের ফলে উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা।
ইউক্রেনভিত্তিক উন্মুক্ত গোয়েন্দা গবেষণা সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডসের দাবি, সেতুটির মূল উদ্দেশ্য রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তার জন্য একটি গোপন সামরিক সরবরাহপথ তৈরি করা।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে জাহাজের মাধ্যমে রাশিয়ায় আনুমানিক ৭ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা পাঠিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এর আগে দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে একে অপরকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দেশবার্তা/এমআর