সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোয় হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি আরব। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং জ্বালানি খাতের কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে জানান, হুথিরা আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান প্রদেশের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলা কখন হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
আল-মালিকি হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ এবং সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এসব হামলা সৌদির নাগরিক ও বাসিন্দাদের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে। হামলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোয় হামলা হয়। এতে কয়েকজন নাগরিক ও বাসিন্দা আহত হন। কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যাওয়ায় কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
হামলার বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে হুথিরা অভিযোগ করে, সৌদি আরব উত্তর ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশের আল-হাজম এলাকায় একটি কারাগারে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে তারা। ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।
আবারও উত্তপ্ত ইয়েমেন
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
জুলাইয়ে সানা বিমানবন্দরে হামলার পর হুথিরা সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই মাসের শেষ দিকে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
এরপর বৃহস্পতিবার হুথিরা বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করে। পশ্চিম তাইজ ও দক্ষিণ হোদেইদাহ হয়ে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী আল-মাখা ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে তারা। পরে সংঘাত আল-দালেয়া, মারিব, আল-জাওফ ও আল-বায়দা প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট থেকে ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে প্রায় ১ হাজার ৭৮ জন নিহত বা আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার থেকে ২১ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।সূত্র: আল-জাজিরা
দেশবার্তা/এমআর