গাজীপুরে মহাসড়কের পাশে সুটকেস ও বস্তায় পাওয়া নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে মো. মিশন ইসলামের সঙ্গে ডলি আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে ও পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের ভাড়া বাসায় ডলিকে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেটি দ্বিখণ্ডিত করে সুটকেস ও বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার মিশন ইসলাম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
জবানবন্দি অনুযায়ী, ডলি মিশনের বাসায় গেলে বিয়ে ও পূর্বের বিরোধের বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে লুঙ্গি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ও বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, পরদিন মিশন বটি ও ব্লেড দিয়ে মরদেহটি কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করেন। এরপর মরদেহের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ বস্তায় ভরে তাঁর বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহযোগিতায় ভবানীপুর ব্রিজ এলাকার খালে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বারবাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টস-সংলগ্ন আবুল কাশেমের বহুতল ভবনের পাশে কালভার্টের নিচে স্থানীয় লোকজন একটি কালো রঙের সুটকেস দেখতে পান। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুটকেস খুলে এক নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহের একটি অংশ উদ্ধার করে। পরে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহের অপর অংশও উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর মরদেহের পরিচয় ও হত্যার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্তে যুক্ত হয় পিবিআই গাজীপুর জেলা। ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআইয়ের দাবি, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিশন ইসলাম ও তাঁর বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মরদেহটি অজ্ঞাত ও পচনশীল হওয়ায় শুরুতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধী যত কৌশলেই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।”
প্রতিনিধি/আরএইচ