বাগেরহাটের শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর রাফি আকন (৯) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির পেছনের খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ ও পরিবার। নিহত রাফি আকন দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের জসিম আকনের ছেলে। সে ৫৭ দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় রাফি। নির্ধারিত সময়ের পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্বজনরা বাড়ির আশপাশ, আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
সোমবার সকালে বাড়ির পেছনের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া খালে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট মর্গে পাঠানো হবে।
নিহত শিশুর বাবা জসিম আকন ও মা লাকি বেগম বলেন, পরিকল্পিতভাবে রাফিকে হত্যা করে খালে ফেলে রাখা হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
মোরেলগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ খান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটির নিখোঁজ হওয়া এবং তিন দিন পর বাড়ির অদূরের খাল থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, তা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ