জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিংয়ের দুটি পৃথক ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা চলমান কিংবা নির্ধারিত কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমানের সই করা পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে পরদিন ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়রদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পাশের ‘মনপুরা’ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তাদের গালিগালাজের পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করানোর মতো শাস্তিও দেয়া হয়। এ ঘটনায় বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। তাদের ওপর আরোপিত মোট জরিমানার পরিমাণ ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
এর মধ্যে মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে দিতে হবে ৪৫ হাজার টাকা করে। আর মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবের জরিমানা ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনের ৩৫ হাজার টাকা।
অন্য একটি ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরের শিক্ষাবর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল ও কলেজ মাঠে গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে রাত ২টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জুনিয়র শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করা এবং কান ধরে থাকতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। ‘আচার-আচরণ শেখানোর’ কথা বলে তাদের সঙ্গে র্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের পর ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইশফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সাজিব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ, ২০১৮’-এর ৩(২) (ঘ) ধারা অনুযায়ী এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল কিংবা অন্য কোনো নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন না। একই ধরনের অপরাধ ভবিষ্যতে পুনরায় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দেশবার্তা/একে