দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি অব্যাহত থাকায় জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পিক আওয়ার বা রাত ৯টায় সারাদেশে ১ হাজার ৩২ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে জোনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে ময়মনসিংহ, আর সবচেয়ে কম লোডশেডিং হয়েছে বরিশাল জোনে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরকারি রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
পাওয়ার গ্রিডের প্রকাশিত জোনভিত্তিক লোডশেডিং ও চাহিদার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৯টায় সারাদেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াট। তবে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় এ সময় মোট ১ হাজার ৩২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ময়মনসিংহ জোনে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় সেখানে সর্বোচ্চ ৪৫৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে, যা দেশের যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
লোডশেডিংয়ের দিক থেকে ময়মনসিংহের পরেই অবস্থান করছে সিলেট ও ঢাকা জোন। ৭৬২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সিলেট জোনে ১৭৯ মেগাওয়াট এবং ৬ হাজার ৩২৫ মেগাওয়াট বিশাল চাহিদার বিপরীতে রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী জোনে ১৫২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে খুলনা জোনে ৯০ মেগাওয়াট, কুমিল্লায় ৭১ মেগাওয়াট, রাজশাহীতে ৩৯ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামে ৩০ মেগাওয়াট এবং রংপুর জোনে ১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে সারাদেশের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে স্বস্তিতে ছিল বরিশাল জোন। উক্ত সময়ে বরিশালে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতের উপাত্ত অনুযায়ী, ৪৫৫ মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়ে ময়মনসিংহে দেশের সর্বোচ্চ এবং মাত্র ৬ মেগাওয়াট ঘাটতি নিয়ে বরিশালে সর্বনিম্ন লোডশেডিং হয়েছে।
দেশবার্তা/একে