এশিয়ান দেশগুলোর মুদ্রার বিপরীতে স্থির টাকা মান

দেশবার্তা ডেস্ক

অর্থ-বাণিজ্য

এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে বড় ধরনের অবমূল্যায়নের মুখে পড়লেও ব্যতিক্রম বাংলাদেশের টাকা। ২০২৫ সালের জুন থেকে

2026-09-18T17:44:42+06:00
2026-09-18T17:44:42+06:00
শুক্রবার ● ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
অর্থ-বাণিজ্য
এশিয়ান দেশগুলোর মুদ্রার বিপরীতে স্থির টাকা মান
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম 
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে বড় ধরনের অবমূল্যায়নের মুখে পড়লেও ব্যতিক্রম বাংলাদেশের টাকা। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার ওনের মূল্য কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। একই সময়ে ভারতীয় ও শ্রীলংকার রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ করে। ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহর মূল্য কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। অন্যদিকে এ সময়ে ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত, চীনের ইউয়ান, পাকিস্তানের রুপি ও বাংলাদেশের টাকা। এর মধ্যে রিঙ্গিত ও ইউয়ানের মূল্য বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ করে, পাকিস্তানের রুপির ২ শতাংশ এবং টাকার প্রায় দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক্সচেঞ্জ রেট অ্যান্ড ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট ডায়নামিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে পর্যালোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ১১টি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রার এক বছরের বিনিময় হার। তথ্যের উৎস হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আইএমএফ ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাটিস্টিকসের (আইএফএস) তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের বিনিময় হার এ সময়ে প্রায় স্থিতিশীল ছিল। ২০২৫ সালের ১ জুন প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৯৬ পয়সা। এক বছর পর চলতি বছরের ১ জুন তা কমে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন না হয়ে বরং প্রায় ২১ পয়সা শক্তিশালী হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও কম্বোডিয়ার মুদ্রা ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক প্রবণতার তুলনায় বাংলাদেশী টাকার বিনিময় হার অনেকটাই ছিল স্থিতিশীল।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২২ সাল-পরবর্তী তিন বছরে টাকার বিনিময় হারে ৪৫ শতাংশেরও বেশি অবমূল্যায়ন হয়। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এত বড় ধাক্কা দেশের অর্থনীতি নিতে পারেনি। এ কারণে মূল্যস্ফীতি ছাড়িয়ে যায় দুই অংকের ঘরে। পরে তা কিছুটা কমলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আবার বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের কারণেও বাংলাদেশ বিনিময় হারে স্থিতিশীলতার সুফল কাজে লাগাতে পারেনি।

অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে পারাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান  বলেন, ‘গত এক বছরে ভারতসহ এশিয়ার অনেক দেশের স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটি হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত অর্থবছরে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ ডলারও বিক্রি করিনি। উল্টো বাজার থেকে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছি। এ সময়ে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে।’

বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে জানিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রবাসীরা গত অর্থবছরে রেকর্ড সাড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। চলতি অর্থবছরে আরো বেশি রেমিট্যান্স আসছে। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি, বাজারে এ মুহূর্তে ডলারের বিনিময় হারের ওপর কোনো চাপ নেই। আশা করছি, আগামী দিনগুলোয়ও বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকবে।’

এদিকে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ভারতীয় রুপির বিনিময় হার প্রায় ১০ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে রুপির সর্বনিম্ন দর ছিল ৮৭ দশমিক ৬০ রুপি। আর ধারাবাহিকভাবে অবমূল্যায়নের ফলে ‌এর দর ৯৭ রুপি পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। অবশ্য গতকাল ভারতে প্রতি ডলার প্রায় ৯৬ রুপিতে লেনদেন হয়েছে।

ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, দেশটির বাজারে ডলারের জোগানের চেয়ে চাহিদা বেশি। এ কারণে বিনিময় হারে রুপি দর হারাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে তাদের মূলধন তুলে নিচ্ছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতকে তেল আমদানির জন্য বেশি পরিমাণে ডলার খরচ করতে হচ্ছে। অবশ্য ডলারের বিপরীতে রুপি প্রায় ১০ শতাংশ দর হারালেও ভারতের মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের আগস্টেও দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

ভারতের মতোই গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ১০ শতাংশ অবমূল্যায়নের মুখে পড়েছে শ্রীলংকান রুপি। অবশ্য এর আগে ২০২২ সালের মার্চ-পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে রুপির রেকর্ড দরপতন হয়েছিল। ওই বছরের মার্চে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ২০০ রুপির মধ্যে। কিন্তু মে মাসে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৩৫০ রুপি ছাড়িয়ে যায়। সে সময় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে নিজেকে দেউলিয়াও ঘোষণা করেছিল শ্রীলংকা। অবশ্য এরপর দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রটি। সাম্প্রতিক অবমূল্যায়নের পরও শ্রীলংকায় এখন প্রতি ডলার ৩৩০ রুপির নিচে রয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রাও ডলারের বিপরীতে এক বছরে প্রায় ৯ শতাংশ অবমূল্যায়নের মুখে পড়েছে। এক্ষেত্রে ভিয়েতনামের মুদ্রারও প্রায় ১ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। আর সিঙ্গাপুর ও কম্বোডিয়ার মুদ্রার অবমূল্যায়ন ছিল তুলনামূলকভাবে সামান্য।

বাংলাদেশের বাজারে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার পেছনে রেমিট্যান্স সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক এ প্রধান অর্থনীতিবিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এশিয়ার বিভিন্ন দেশের স্থানীয় মুদ্রার শক্তিশালী হওয়া কিংবা অবমূল্যায়নের সঙ্গে সে দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অবস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে। বৈশ্বিকভাবে গত এক বছরে ডলারের বিনিময় হার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বাড়ার কারণে বিশ্বব্যাপী ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনো স্থিতিশীল থাকার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসছে। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য বড় সংবাদ।’

এ মুহূর্তে বিনিময় হার নিয়ে স্বস্তি থাকলেও বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও আছে বলে জানান ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে আমদানির জন্য বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। এ কারণে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। অনেক দিন থেকেই দেশের বেসরকারি খাত স্থবির। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে এ স্থবিরতা আরো গভীর হয়েছে। সংকট কাটিয়ে বেসরকারি খাত চাঙ্গা হলে তখন আমদানি চাহিদা অনেক বাড়বে। তখন ডলারের বিনিময় হার কতটা স্থিতিশীল রাখা যাবে, সেটি বড় প্রশ্ন। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।’

রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়া এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস (আউটলুক) ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডি’স রেটিংস। তবে বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী এ সংস্থাটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান ‘বি২’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মুডি’সের পক্ষ থেকে ঋণমানের পূর্বাভাস স্থিতিশীল করার প্রভাবে বাংলাদেশের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আর বিদেশী বিনিয়োগ বাড়লে বিনিময় হারও স্থিতিশীল থাকবে।

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

এআই’র অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ১০৪৮
ছেলেদের হকিতে হারে শুরু বাংলাদেশের
তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩
গড়াই নদীতে নৌকাবাইচ, দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ

সর্বাধিক পঠিত 

পঞ্চগড়ের জন্মমাটিতেই আড়ালে নজরুলসাধক তজিরুল ইসলাম
বিষণ্ণ ভালোবাসা
আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-০১
মাগুরায় তথ্য জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে পা কেটে নেওয়ার হুমকি, থানায় জিডি
বিশ্বসেরা ৬ দলে চুয়েটের চার শিক্ষার্থী, বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন আমেরিকায়
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]