রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না তেল, আর দু-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও তা কেবল ২ ও ৫ লিটারের বোতলে সীমাবদ্ধ। আধা লিটার ও এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে নেই বললেই চলে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঙ্ক্ষিত পরিমাণের তেল কিনতে ক্রেতাদের ৪ থেকে ৫টি দোকান ঘুরতে হচ্ছে। আধা ও এক লিটারের বোতলের সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ক্রেতা ধরে রাখতে অনেক খুচরা বিক্রেতা বাধ্য হয়ে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন।
খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর কোম্পানিগুলো ভোজ্যতেলের দাম বাড়ালেও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি। পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজারজাতকরণ কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে কেবল দুই-তিনটি কোম্পানি বাজারে সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
এদিকে নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বেড়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ২ লিটারের বোতল ৪০৮ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ১০২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকার ক্রেতা ফরিদ বলেন, ‘আমার লাগতো এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল; কিন্তু কয়েক দোকান ঘুরেও তা পেলাম না। তাই বাধ্য হয়ে দুই লিটারের বোতলই কিনেছি। যে কারণে অন্য সদাই না নিয়েই বাড়ি ফিরছি।’
অন্যদিকে, কোম্পানিগুলো বিক্রিয় কমিশন একবারে কমিয়ে প্রতি লিটারে মাত্র ১ টাকা নির্ধারণ করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
রামপুরা এলাকার ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ‘৫ লিটার তেল কিনলে এমনিই মানুষ ৫-১০ টাকা কম দিতে চায়। এখন আমাদের মুনাফাই ৫ টাকা। অর্থাৎ, হাজার টাকা ইনভেস্ট করে লাভ হচ্ছে ৫ টাকা। তাও কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।’
বোতলজাত তেলের এই সংকটের সুযোগে হুহু করে বাড়ছে খোলা তেলের দাম। বাজারে বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ২০৫ থেকে ২০৮ টাকা এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তেলের পাশাপাশি রাজধানীতে সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ডিম বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
এছাড়া কাঁচামরিচের বাজারেও বেশ উত্তাপ দেখা গেছে। পূর্বে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় উঠেছে।
রাজধানীর বাজারে অন্যান্য সবজির দাম চড়া হলেও তা স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে ঢ্যাঁড়স ও পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং ভালো মানের লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কচুর মুখি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিংগা ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং ঝিঙ্গা ও কাকরোল ৭০ থেকে ৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাজারে সবচেয়ে বেশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি, যার প্রতি কেজির দর ১০০ থেকে ১৩০ টাকা।
দেশবার্তা/একে