২০২৮ সালের মধ্যে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একই নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানের লেকশোর হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপ: সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার সব ধরনের কাজ করছে। তবে আগে বিভিন্ন প্রকল্পে অবকাঠামো নির্মাণকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার গুণগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়েও গুরুত্ব দেয়ার কথা জানান।
সারা দেশের সব স্কুলে মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশের সব স্কুলে পর্যায়ক্রমে মিড ডে মিল চালু করা হবে। তবে হিল ট্র্যাক্টস এলাকায় সাপ্লায়ার না পাওয়ায় সেখানে এ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।
মিড ডে মিল বাস্তবায়নে ‘কুক মিল’ পদ্ধতিকে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে কুক মিলের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে।
শিক্ষকদের জন্য টিচার পলিসি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ নীতিমালা হলে শিক্ষকরা উপকৃত হবেন। নীতিমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করে দ্রুতই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কাঠামো প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, এটি বড় কোনো ইস্যু নয়। তার মতে, এর চেয়ে কম বেতনেও বেসরকারি খাতে ভালো মানের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামাজিক কল্যাণের বিষয়টিও যুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। স্কুল পরিচালনা কমিটিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষমতার দাপটে আসার বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাদের অবসর সময়ে কী করবেন, সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষক চাইলে তার ফ্রি টাইমে টিকটকও করতে পারেন।
তিনি বলেন, সরকার জবাবদিহিতার অধীনে থাকতে চায়। একটি জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।
দেশবার্তা/এমআর