জামালপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর শ্রীপুর ইউনিয়নের কেশবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, সনদ জালিয়াতি ও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সুপার মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন মাদ্রাসাটির কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাদ্রাসাটিতে কর্মরত কয়েকজন শিক্ষকের একাডেমিক সনদ, শিক্ষক নিবন্ধন সনদ, বিএড/বিপিএড, কম্পিউটার ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ সনদ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, ডিজির প্রতিনিধির প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের কাগজপত্র নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তথ্য জানতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাদ্রাসা চলাকালে সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত আবেদন করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। তাদের ভাষ্য, নয়জন শিক্ষকের সনদ ও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আটজনের বিষয়ে লিখিতভাবে এবং একজনের বিষয়ে মৌখিকভাবে তথ্য চাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগে যেসব শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ফাতেমা খাতুন, আব্দুল বাছেদ, রোকন উদ্দিন, মোছা. নুসরাত জেবিন, আব্দুস ছাত্তার, সাজিয়া আফরিন আনু, সালেহ উদ্দিন, নুর আলম সিদ্দিক ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কারও একাডেমিক সনদ, কারও নিবন্ধন সনদ, কারও প্রশিক্ষণ সনদ এবং কারও অন্যান্য যোগ্যতার নথি নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে।
এ ছাড়া মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ডিজির প্রতিনিধি প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের নথি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট মূল নথি ও সরকারি রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
উপবৃত্তির অর্থ বণ্টন নিয়েও অভিযোগ
মাদ্রাসাটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপবৃত্তির বিপরীতে পাওয়া টিউশন ফি শিক্ষকদের মধ্যে নির্ধারিত স্কেল অনুযায়ী সমবণ্টন করা হয়নি। এ অর্থের একটি অংশ প্রতিষ্ঠানটির সুপার আত্মসাৎ করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ওই শিক্ষক আরও দাবি করেন, মাদ্রাসার জেনারেল ফান্ড ও এফডিআরের তথ্যও চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সংশোধনের দাবি জানান তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মো. রুহুল আমিনের বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন
শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা, সনদ ও নিয়োগসংক্রান্ত নথির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মূল নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উপবৃত্তির টিউশন ফি, জেনারেল ফান্ড ও এফডিআরসংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা করা হলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
দেশবার্তা/এমআর