ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৫.১ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে পেন্টাগন।

2026-09-19T16:55:08+06:00
2026-09-19T16:55:08+06:00
শনিবার ● ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৪ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
বিশ্ব
জানালো পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৫.১ বিলিয়ন ডলার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে পেন্টাগন। শুক্রবার আইনপ্রণেতাদের কাছে দেওয়া তথ্যের বরাতে এ কথা জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যয় ছিল ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে যুদ্ধের কারণে অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে।

তবে এই হিসাবকে যুদ্ধের চূড়ান্ত বা পূর্ণাঙ্গ ব্যয় হিসাব হিসেবে দেখছে না পেন্টাগন। এর মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ভবন মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি সামরিক অভিযানের বিভিন্ন পরোক্ষ ব্যয়েরও বিস্তারিত হিসাব কংগ্রেসকে দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

আগের হিসাব ছাড়িয়ে গেছে ব্যয়

পেন্টাগনের নতুন হিসাব কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট বিশ্লেষণকারী সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সাম্প্রতিক হিসাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সিবিও-এর হিসাবে, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যয় ছিল প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রধান ব্যয়ের খাত ছিল ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় মজুত করা, যুদ্ধে হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, অতিরিক্ত বিমান পরিচালনা এবং জ্বালানি ব্যয়।

এর আগে জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানেই যুদ্ধের ব্যয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সিবিও-এর হিসাবে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের একটি অংশ এসেছে সামরিক গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় সংগ্রহে। এর বাইরে অতিরিক্ত বিমান পরিচালনায় প্রায় ১০ দশমিক ৪ বিলিয়ন এবং জ্বালানি বাবদ প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

প্রতি মাসে আরও ২–৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের আশঙ্কা

যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় আরও দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সিবিও।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ১ আগস্টের পর যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতি মাসে আনুমানিক ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। সংঘাতের তীব্রতা বাড়লে মাসিক ব্যয়ও আরও বেড়ে যেতে পারে।

এর অর্থ হলো, সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে শুধু ইতোমধ্যে ব্যয় হওয়া ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারই নয়, সামনে আরও বিপুল অর্থ মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে ব্যয় হতে পারে।

তবে সিবিও-এর ৩৮ বিলিয়ন ডলারের হিসাব এবং পেন্টাগনের ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের হিসাব একই সময়সীমার নয়। সিবিও-এর হিসাব ১ আগস্ট পর্যন্ত, আর পেন্টাগনের নতুন হিসাব ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যয় এবং অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে দুই হিসাবের সরাসরি তুলনায় সময়সীমার পার্থ্যটি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

ঘাঁটি মেরামতের খরচ এখনও যোগ হয়নি

যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক বোঝা আরও বড় হতে পারে। কারণ পেন্টাগনের ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের হিসাবে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি, ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা মেরামতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নেই।

সিবিও-এর হিসাবেও মার্কিন সামরিক স্থাপনা মেরামতের খরচ ধরা হয়নি। ফলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় মজুত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আহত ও নিহত সেনাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ভেটেরানদের জন্য বিভিন্ন সুবিধার ব্যয়ও যুদ্ধের সরাসরি ব্যয়ের হিসাবের বাইরে থাকতে পারে। সিবিও তাদের হিসাবকে মূলত প্রতিরক্ষা বিভাগের সরাসরি আর্থিক প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে।

অর্থনীতিতেও পড়তে পারে যুদ্ধের প্রভাব

ইরান যুদ্ধের আর্থিক প্রভাব শুধু মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে সতর্ক করেছে সিবিও। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দাম বাড়লে তা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সিবিও-এর হিসাবে, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি যুদ্ধ না হলে যে মাত্রায় থাকত, তার তুলনায় প্রায় ০ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, যুদ্ধের ব্যয় একদিকে মার্কিন সরকারের বাজেটের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়াতে পারে।

অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ

যুদ্ধের আরেকটি বড় আর্থিক ও কৌশলগত প্রভাব পড়েছে মার্কিন সামরিক অস্ত্রের মজুতে। সিবিও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে সেগুলো পুনরায় মজুত করতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে।

বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় সেগুলো পুনরায় উৎপাদন ও সরবরাহ করতে সময় লাগতে পারে। ফলে যুদ্ধের ব্যয় শুধু বর্তমান সামরিক অভিযানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও বাজেট পরিকল্পনাতেও পড়ছে।

সব মিলিয়ে, পেন্টাগনের নতুন হিসাব অনুযায়ী ইরান যুদ্ধের ব্যয় ইতোমধ্যেই ৪৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার যোগ হতে পারে। একই সঙ্গে ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ, অস্ত্রের মজুত পূরণ এবং অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির প্রভাবের মতো খরচ যোগ হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক মূল্য আরও অনেক বেশি হতে পারে। সূত্র: সিএনএন

দেশবার্তা/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

নারায়ণগঞ্জ সদরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান
তেজগাঁও কলেজের মসজিদে গ্রেপ্তার ১২ জন তিনদিনের রিমান্ডে
পে-স্কেলে পেনশন বাড়বে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ
মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের ১১ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ
প্রেসক্লাব যশোরের নির্বাচন : জাহিদ হাসান টোকন সভাপতি নুর ইসলাম সম্পাদক

সর্বাধিক পঠিত 

এবার আগারগাঁও-মহাখালী-যাত্রাবাড়ীতেও ককটেল বিস্ফোরণ
নাজিরপুরে মাদকসংক্রান্ত ভিডিও নিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
নিখোঁজ কুবির শিক্ষকের ছেলের মরদেহ মিললো জঙ্গলে
‘হেলিকপ্টারে পালাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন’
যে কারণে অনিশ্চয়তায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’
বিশ্ব- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]