ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) প্রচারিত পরিসংখ্যানের তুলনায় বাস্তবে বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছয়জন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, পেন্টাগন প্রকাশ্যে ১৮ জন সেনা নিহতের কথা স্বীকার করলেও প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ২২। অপর একজন কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা ২৩ জন বলে দাবি করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত সেনাসদস্যদের সবাই যে সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এমনটি নয়। তবে যুদ্ধ চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত থাকাকালীন বিভিন্ন ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু ঘটে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় কর্মরত অন্তত তিনজন বেসামরিক কন্ট্রাক্টরও প্রাণ হারিয়েছেন বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে এ যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুধু সেনা হারিয়েছে তা নয়, বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখিও হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন (৪ হাজার ৪০০ কোটি) ডলার ব্যায় করতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইয়েমেন ও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক যৌথ বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে ইরানি বাহিনীরও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী কৌশল নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে সেখানে নতুন করে বড় ধরণের সামরিক আঘাত হানা হতে পারে, অথবা আলোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘাতের ইতি টানা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন প্রথম ইরানে হামলা চালায়, তখনও দুপক্ষের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি ওয়াশিংটন আবারও আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে তাদের দেওয়া পূর্বশর্তগুলো মানতে হবে।
দেশবার্তা/একে