ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নিজেদের বসতবাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঁইয়া। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানের সময় উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে এডিস মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু সরকারি দপ্তর বা জনসমাগমস্থল পরিষ্কার রাখলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, টায়ার ও ভাঙা আসবাবপত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ভেতর ও বাইরে নিয়মিত নজরদারি চালানো জরুরি। সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের সব জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করলে মশার প্রজননস্থল অনেকটাই ধ্বংস করা সম্ভব।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা বা ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু অভিযান পরিচালনা বা ওষুধ ছিটানোর ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাড়ির আশপাশে পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ ও নিয়মিত তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ