দীর্ঘ ১১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হতে যাওয়া তাঁর এই তিন দিনের সরকারি সফর ঘিরে ওয়াশিংটনে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মে মাসে বেইজিংয়ে সাক্ষাতের পর এটি চলতি বছরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মুখোমুখি শীর্ষ বৈঠক।
কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ’-এর টারম্যাকে উপস্থিত থেকে শি জিনপিংকে অভ্যর্থনা জানাবেন বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউসের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফর চলবে। বৃহস্পতিবার সকালে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে পূর্ণ সামরিক সম্মাননা ও ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে শি জিনপিংকে। এরপর রোজ গার্ডেনে সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের পর ওভাল অফিস ও ক্যাবিনেট রুমে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ওই দিন রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে একটি বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এতে টেসলা-প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, অ্যাপল-কর্তা টিম কুক ও এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীরা উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, গত মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরেও তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাস্ক, কুক ও হুয়াং।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে দ্বিপক্ষীয় অধিবেশন, বিকেলে চা-চক্র ও ‘ন্যাশনাল আর্কাইভস’ পরিদর্শনের পর চীনের প্রতিনিধিদল দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে।
দুই পরাশক্তির এই মহাবৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ট্রাম্প ও শি-র মধ্যে হওয়া এক বছরের বাণিজ্যযুদ্ধ-বিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এই চুক্তি টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক শুল্ক হ্রাস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনা ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কেনাবেচার চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে দুই দেশ।
একই সঙ্গে, কৃত্রিম মেধা বা এআই সুরক্ষার বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ‘এআই ডায়ালগ’ রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য স্থির করেছেন দুই নেতা। এর মধ্যে উন্নত এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিশেষ জরুরি ‘সংকট-বিজ্ঞপ্তি চ্যানেল’ (ক্রাইসিস-নোটিফিকেশন চ্যানেল) তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্যযুদ্ধ, জিনজিয়াং প্রদেশে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি খাত নিয়ে দুই দেশের সংঘাতের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি চীনা রোবোটিক্স ও পাওয়ার ইনভার্টারের ওপর বিধিনিষেধ চাপানোর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা চীনা সংস্থাগুলোর ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
অন্যদিকে, বেইজিংও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আধুনিক ইলেকট্রনিক্স ও সামরিক সরঞ্জামের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ চুম্বক রপ্তানি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
আসন্ন বৈঠকে ওয়াশিংটন এই খনিজ চুম্বক রপ্তানির বিষয়টি তুলতে পারে। এর জবাবে উচ্চপ্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির যন্ত্রাংশ রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাখা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলবে বেইজিং। এছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন করিডোরের স্থায়িত্ব, সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, তাইওয়ান প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরান সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে।
দেশবার্তা/একে