যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে গত ১১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের প্রধান দুই বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-উভয়েরই দরপতন ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ১৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ২ দশমিক ১৫ ডলার কমেছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড ১০১ দশমিক ৭১ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত ১০ সেপ্টেম্বররের পর এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামল।
জ্বালানি পণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে এই সপ্তাহে হয়তো কোনো কূটনৈতিক পথ বেরিয়ে আসবে-এমন আশার কারণে তেলের দাম থেকে কিছুটা ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা ঝুঁকিজনিত বাড়তি মূল্য সরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সেই আশা কতখানি যৌক্তিক, তা অবশ্য ভিন্ন প্রশ্ন। সময়ই তা বলে দেবে।
চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে আসতে যাওয়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে আল-জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ফের আলোচনায় বসতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের শর্তাবলী তুলে ধরেছে ইরান।
কূটনৈতিক আলোচনার গুঞ্জনের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের তীরবর্তী তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় এতদিন ইয়ানবু থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ করত সৌদি আরব। তবে সম্প্রতি আরামকোর পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে হুথিদের হামলার কারণে ইয়ানবু থেকে তেলের চালান পাঠানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় রিয়াদ এবং বর্তমানে তারা তেল রপ্তানির জন্য পুনরায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করছে। সূত্র: রয়টার্স
দেশবার্তা/একে