দেশে মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) যুক্ত হওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ধারাবাহিক ব্যাংক হিসাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই শেষে দেশে মোট এমএফএস হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৫টিতে। আগের মাস জুনের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৮টি বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-ব্যাংকিং অ্যান্ড ই-কমার্স স্ট্যাটিসটিকস ইউনিটের তথ্যমতে, জুলাই শেষে পুরুষ গ্রাহকের হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৩টি, যা মোট হিসাবের প্রায় ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে নারী গ্রাহকের হিসাব ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৭টি, যা মোট হিসাবের প্রায় ৪২ শতাংশ। এছাড়া লিঙ্গপরিচয় উল্লেখ না থাকা হিসাব রয়েছে ৮ লাখ ৯০ হাজার ৪৯৭টি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের হিসাব সংখ্যায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাইয়ে কিশোরদের হিসাব দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১০০ এবং কিশোরীদের ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৮টিতে।
লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এজেন্ট হিসাবের সংখ্যা জুলাইয়ে কিছুটা কমেছে। এ মাসে এজেন্ট হিসাব নেমে এসেছে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫৪৫টিতে, যা জুনে ছিল ২০ লাখ ৮৩ হাজার ৫২২টি।
তবে মার্চেন্ট ও পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্টে (পিআরএ) প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। জুনে ৬ লাখ ৫০ হাজার ৪১৩টি মার্চেন্ট হিসাব থাকলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ১৭৮টিতে। একই সময়ে পিআরএ হিসাব ১০ লাখ ২৯ হাজার ৪০৯ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫৯৪টিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত 'নগদ' তাদের হিসাবের তথ্য জমা দিতে পারেনি। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য পুনরায় যুক্ত হলে মোট হিসাবে বড় লাফ দেখা যায়। ফেব্রুয়ারিতে মোট হিসাব ১৪ কোটি ৫১ লাখের কিছু বেশি থাকলেও মার্চে তা বেড়ে ২৫ কোটি ৩২ লাখ ৭৯ হাজারে পৌঁছায়। পরবর্তী চার মাসে (মার্চ থেকে জুলাই) যুক্ত হয়েছে আরও প্রায় ৫৪ লাখ হিসাব।
ভৌগোলিক হিসাবে দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এমএফএস হিসাবের সংখ্যা এখনও কিছুটা বেশি। জুলাই শেষে গ্রামাঞ্চলে মোট হিসাব দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৩টি এবং শহরাঞ্চলে এই সংখ্যা ১২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২২টি।
দেশবার্তা/একে