জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উত্তরার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাঁর বাসায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) জি এম কাদেরের উত্তরার বাসায় হামলার এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন জাপা চেয়ারম্যানের বার্তা সম্পাদক শৌর্য দীপ্ত সূর্য।
এদিকে ‘স্বৈরাচার বিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকেরা উত্তরার ওই বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে জি এম কাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভকালে আন্দোলনকারীরা বাসভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জি এম কাদেরের বিচারে জোর দাবি জানান। কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ব্যানারে কারাগারে বন্দি জি এম কাদেরের একটি প্রতিকৃতি এঁকে লেখা হয়, ‘জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ; জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষের প্রাণহানির বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পরও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল।
তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো দোসরকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অবিলম্বে জি এম কাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
দেশবার্তা/একে