| চলমান বার্তা: |

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯(১) ও ৩(৫) ধারা এবং অস্ত্র আইনের ৩ ও ২৫ ধারায় মামলা করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর অভিনেতা বিদ্যুৎ জামওয়াল মুম্বাই পুলিশের কাছে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। টাইগারকে নিজের পরিচিত ‘সবচেয়ে নির্ভীক মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিদ্যুৎ।
চলচ্চিত্র পরিচালক রাহুল ঢোলাকিয়াও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘যারা নিরীহ, তাদের জেলে পাঠানো হয়, আর অপরাধীরা রাস্তায় নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়! জেলে থাকা এক গ্যাংস্টার প্রকাশ্যে বলিউডকে হুমকি দিচ্ছে এবং যখন খুশি গুলি চালাচ্ছে—আর আমরা শুধু ভয়ের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়তে দিচ্ছি! এর জবাবদিহি কে করবে?’
অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ রবি কিষণ এ ঘটনায় মহারাষ্ট্র পুলিশের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি গভীর উদ্বেগের এবং তদন্তসাপেক্ষ। মহারাষ্ট্র পুলিশের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তদন্ত হবে এবং যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।’
প্রবীণ অভিনেতা রাকেশ বেদিও ঘটনাটিকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, টাইগার শ্রফ কিংবা তাঁর বাবা জ্যাকি শ্রফ এমন কোনো বিতর্কে জড়াননি, যা এ ধরনের হামলার কারণ হতে পারে।
টাইমস নাউকে রাকেশ বেদি বলেন, ‘জ্যাকি আমার বহুদিনের বন্ধু। আমরা একসঙ্গে কাজও করেছি। ও খুব সহজ-সরল, হাসিখুশি এবং বিতর্ক থেকে দূরে থাকা একজন মানুষ। ওর ছেলেও তেমনই। তাই চলচ্চিত্র জগতের কাছে এই ঘটনাটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। ওই ব্যক্তি এমন কোনও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বিষয়টিকে আর পাঁচটা হুমকির ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিনহা ঘটনাটিকে ‘বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বড় ধরনের আঘাত ছাড়াই টাইগার শ্রফ বেঁচে গেছেন, যা সৌভাগ্যের বিষয়। তবে অভিনেতার গাড়িচালক আহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
চলচ্চিত্র পরিচালক রাম গোপাল বর্মাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘টাইগার শ্রফের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি। এত দিন তোলাবাজি, সুপারি দিয়ে খুন বা বিভিন্ন বিবাদের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটত। কিন্তু এই প্রথম যেন অহংকার ও আত্মগরিমার কারণে কাউকে খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
