“নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দিনাজপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দিনাজপুর জেলা শাখার আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে র্যালিটি শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
র্যালিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. হাবিবুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. মোকারম হোসেন, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল মিলন, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুর মূর্শেদ সুমন, দিনাজপুর লায়ন্স ক্লাবের ডিরেক্টর লায়ন রেজোয়ান হোসেন চৌধুরী রানা, জেলা কমিটির সভাপতি মো. এরশাদুজ্জামান মোল্লা এবং সংগীতশিল্পী বিপাশা মুরশালিনসহ অনেকে।
র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুন্সিপাড়ার লুৎফুন্নেছা টাওয়ারের সামনে সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নিরাপদ সড়ক চাই দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. এরশাদুজ্জামান মোল্লা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার, দিনাজপুর চেম্বারের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুর মূর্শেদ সুমন, বিরল ব্রহ্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত তাজ আল মিনাল এবং জেলা শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সমাজকর্মী মুকিদ হায়দার শিপন।
বক্তারা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিদিনের অকাল মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের পাশাপাশি সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১৩ বছরে দেশে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৮ হাজার ৫৪৩ জন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ১১১ জনে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, ৪ হাজার ২৮৫টি দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ১৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
তাঁরা জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে বিআরটিএর মাধ্যমে সরকার ৫ লাখ টাকা এবং আহত ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে আসছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডোমার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জিয়া, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফুয়াদ, আস্তারুল ও মমিনসহ কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মতিয়ার রহমান। আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ