বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম বলেছেন, মানুষ ধোঁকা খেতে খেতে এবং শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হতে হতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই সব দল থেকে মুখ ফিরিয়ে জামায়াত এখন মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মানুষের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফেনী জেলা জামায়াতের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী রুকনদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুর রহিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের আরেক কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
কর্মশালায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির পরিবেশবিজ্ঞানী নজরুল ইসলাম, ফেনী জেলার সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য একেএম শামছুদ্দিন, নোয়াখালী জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ইসহাক খোন্দকার, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফারুক আহমাদ, লন্ডনপ্রবাসী নেতা অধ্যাপক মফিজুর রহমান (ভার্চুয়াল) এবং জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউছুফ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন। কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা দারসুল কোরআন পেশ করেন।
প্রধান অতিথি মাওলানা এ টি এম মাছুম আরও বলেন, ইব্রাহিম (আ.) যেভাবে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, সেভাবে তাঁরাও পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পিত হলে যেন সেই পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারেন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন।
তিনি বলেন, এ জন্য মজবুত ঈমানের অধিকারী হতে হবে এবং নিয়তের মধ্যে ইখলাস থাকতে হবে। দ্বীনের কাজের ক্ষতি করে দুনিয়ার কাজে মশগুল থাকলে চলবে না। এটাই ইখলাস। মুমিন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাবে। মুমিন কখনো হতাশ, নিরাশ বা ভেঙে পড়বে না।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সাল নিয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়, সেগুলো সবই মিথ্যা ও বানোয়াট।
প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ