গত মাসে গড়ে তোলা শুবমান গিলের রেকর্ড টপকে ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির এক নতুন ইতিহাস গড়লেন হ্যারি ব্রুক। তার এই তাণ্ডবে পাহাড়সম সংগ্রহ গড়েছিল ইংল্যান্ড। তবে রানের সেই পাহাড় টপকেও অবিশ্বাস্য এক রান তাড়ায় স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে এমন হারকে ক্রিকেটীয় বাস্তবতার সঙ্গেই মেলালেন ইংলিশ অধিনায়ক ব্রুক।
রাওয়ালপিন্ডিতে বৃহস্পতিবার রাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ২ উইকেটের এক রুদ্ধশ্বাস জয় ঝুলিতে পুরেছে লঙ্কানরা। ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে প্রথমে ব্যাটিং করে ৪ উইকেটে ৪২৯ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ইংল্যান্ড। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে, খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ১ বল বাকি থাকতে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
বিফলে গেছে ইংলিশ দলনেতা ব্রুকের ২১টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো ১১৬ বলে ২০২ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে মাত্র ১১৪ বলে সেঞ্চুরি থেকে দ্বিশতকে পৌঁছে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড এটি। এর আগে গত মাসে গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের অধিনায়ক গিল।
ওয়ানডে ফরম্যাটের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করার পরও হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হলো ব্রুককে। ম্যাচ শেষে নিজের হতাশা চেপে না রেখে তিনি বলেন, “হৃদয়বিদারক। ৪৩০ রানের লক্ষ্য রক্ষা করতে না পারাটা অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে এটাই জীবন, এটাই ক্রিকেট।”
ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে পরবর্তীতে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংলিশদের উদযাপনের সব প্রস্তুতি ভণ্ডুল করে দেয় তারা।
দলের পক্ষে ৮৩ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় ৯৭ রানের এক আক্রোশাত্মক ইনিংসে ভিত তৈরি করেন ওপেনার আভিশকা ফার্নান্দো। চারে নেমে ১০৬ বলে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৩০ রানের এক লড়াকু সেঞ্চুরিতে দলকে জয়ী পথের দিশা দেন পবন রত্নায়াকে। এরপর ঝোড়ো গতিতে রান বাড়ান দাসুন শানাকা ও জানিথ লিয়ানাগে। পাঁচে নেমে ৫০ বলে ৮ ছক্কা ও ৬ চারে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন শানাকা। আর ছয়ে নামা লিয়ানাগে ২৭ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৬১ রানের এক অপরাজিত ঝড় তুলে, ছক্কা হাঁকিয়ে মাঠ ছাড়েন।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের এমন অভাবনীয় জয়ের প্রশংসা করে ব্রুক বলেন, ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতার ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না, তাই শ্রীলঙ্কাকে টুপিখোলা অভিনন্দন, তারা অসাধারণ খেলেছে। আমরা বল হাতে নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী কার্যকর বোলিং করতে পারিনি এবং তারা সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে অবিশ্বাস্য খেলেছে।
তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে নজর রাখছেন ইংলিশ অধিনায়ক। প্রত্যাবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, এটি চরম হতাশাজনক হলেও আমরা জানি ঠিক কোথায় আমাদের ভুলগুলো হয়েছে। এটা নিয়ে আমরা এখনই এবং আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করব। লাহোরে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্য পূরণ করার জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আমাদের সামনে দারুণ সুযোগ রয়েছে।
দেশবার্তা/একে