প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকেই নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত তৃতীয় ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি-১০৪) আনুষ্ঠানিকভাবে নদীতে নামানো (লঞ্চিং) হয়েছে।
নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে (খুশিলি) নির্মিত এই জাহাজটি শনিবার (২৪ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (ম্যাটেরিয়েল) রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজটি লঞ্চ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য সামরিক ও অসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কানাডার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ভার্ড মেরিনের নকশায় নির্মিত এলসিটি-১০৪ জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৭৪.৫ মিটার, প্রস্থ ১৩ মিটার এবং এর ডিসপ্লেসমেন্ট ১,৫০৫ মেট্রিক টন। জাহাজটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ মাইল গতিতে চলাচলে সক্ষম। এটি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ এম্ফিবিয়াস অভিযানে স্পেশাল ফোর্স পরিবহনের পাশাপাশি সামরিক ভারী সরঞ্জাম ও যানবাহন দূরবর্তী উপকূলীয় কিংবা দ্বীপাঞ্চলে স্থানান্তরে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান ও লজিস্টিক সহায়তা কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন ৩টি এলসিটির মধ্যে প্রথমটি (এলসিটি-১০২) গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয়টি (এলসিটি-১০১) চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি লঞ্চ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রস্তুত করা এই জাহাজগুলোতে ক্যাটারপিলার ইঞ্জিন ও উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ এবং আধুনিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ৮০০টিরও বেশি নতুন জলযান নির্মাণ এবং ২,৫০০টিরও বেশি জাহাজ মেরামত করা আইএসও সনদপ্রাপ্ত খুলনা শিপইয়ার্ডের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘ট্যাক্স কার্ড’ এবং ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ সম্মাননা রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে এসব ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক নির্মিত হওয়ায় একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের প্রতিরক্ষা খাত ও ব্লু-ইকোনমির বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে।
দেশবার্তা/একে