ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) এর অভ্যন্তরে বাইরের এম্বুলেন্স ব্যাবসায়িদের কর্তৃক পরিচালিত এম্বুলেন্স ভাড়ার ‘অ্যাপ’টি আবার চালুর প্রচেষ্টায় তোড়জোড় করছে এই সিন্ডিকেটের পরিচালক মাস্তান বাদল। এই অমানবিক অ্যাপ সিন্ডিকেট নেতার নামই বাদল। যার একচ্ছত্র প্রতিপত্তি ও প্রভাবের কারণে দূর-দূরান্তের সাধারণ রোগীসমাজ সম্পূর্ণ জিম্মি ছিল। পূর্ববর্তী পরিচালক ঢাকা মেডিকেল কলেজের দায়িত্বে থাকাকালীন অদ্ভুত ও অজানা কারণে এই এ্যাপ’স সিস্টেমের প্রচলন হয়। বর্তমানে এই অ্যাপ’সটির জনক মাস্তান বাদল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই অ্যাপ’সটি আবার চালুর পায়তারা করছে।
এমনিতেই সাধারণ এ্যাম্বুলেন্সের যা ভাড়া তার চেয়ে অনেক বেশী ভাড়া আদায় করা হত এই অ্যাপ’স সিস্টেমের মাধ্যমে এখানে কনো দর দাম করার অবকাশ ছিলোনা। অ্যাপ’স সিস্টেমের মধ্যে যে রেট ধার্য করা হত রোগি বা তার পরিবারকে তাই বহণ করতে হত। অন্য কনো এ্যাম্বুলেন্স কম দামে যেতে চাইলে এই মাস্তান বাদল তথা সিন্ডিকেট প্রধান বাদলের হস্তক্ষেপে সবই বৃথা হত।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন এই রোগী লুটেরা অ্যাপটি বন্ধ করে অনেক প্রশংসা কুড়ান। এ্যম্বুলেন্স ব্যাবহারকারী বিপদগ্রস্থ প্রতিটি রোগি বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়া করেছিলেন।
কিন্তু এই এ্যাপট’র হোতা এম্বুলেন্স মালিক মাস্তান বাদল পুনরায় চালু করার জন্য আবার তোড়জোর শুরু করেছে। অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারকারী প্রতিদিনকার রোগীদের থেকে লাখ লাখ টাকা লুটের লালসার ফন্দিতেই মশগুল এই হাসপাতালের মধ্যে রাজত্ব করা বাদল ও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশেষ কায়দায় আসা ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ গ্যাংদের দৌরাত্ম কবে বন্ধ হবে, এই চাওয়া প্রতিটি রোগির। ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিপাত অতি সহসা কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের কান্নার সমাধান কবে হবে? অ্যাপ সিন্ডিকেট বিপদগ্রস্ত অসহায় রোগীদের একপ্রকার সিস্টেমে বাধ্য করে ক্রমাগত হাতিয়ে নিচ্ছিল লাখ লাখ টাকা। বাদলের নেতৃত্বে হাসপাতাল ভিত্তিক সন্ত্রাসী গ্রুপ তথাকথিত এই সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছিল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, তারা খোদ ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) অভ্যন্তরে ভবনের উপরে ওঠার প্রবেশ সিঁড়ির পাশেই অফিস খুলে এই অবাধ অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল।
জানা যায়, কুমিল্লা থেকে মৃত্যুশয্যায় থাকা এক বৃদ্ধা রোগী, বয়স আনুমানিক ৫০ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। আসার সময় এ্যাম্বুলেন্সে ২,৫০০ টাকা খরচ হয়। এসে কয়েকদিন ভর্তি থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে স্বামী-সন্তানের সাথে আবার কুমিল্লা রওয়ানা যখন দিবেন তখনই বাধে বিপত্তি। ঢাকা মেডিকেল প্রাঙ্গনে বাইরের অ্যাম্বুলেন্স আসতে দিচ্ছে না কেউ একজন। শর্ত, মেডিকেল কলেজের অ্যাপ’স ভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স নিতে হবে, অর্ডার দিলেই কেবল মিলবে এ্যাম্বুলেন্স। ভাড়া গুনতে হবে আট হাজার টাকা।
উপায়ান্তর না পেয়ে রোগীর সহযোগী হিসেবে আসা সন্তানের চক্ষু চড়কগাছ। দেখে ঢাকা থেকে কুমিল্লা ৮,০০০ টাকা ভাড়া আসবে ওয়ান-ওয়ে। অথচ, স্বাভাবিক ভাবে ২ থেকে ২,৫০০ টাকার বেশী আসার কথাই না। রোগীর শত অনুরোধ, কাকুতি-মিনতি সত্ত্বেও পাষাণ হৃদয়ধারী সিন্ডিকেট অ্যাপ ব্যবসায়ীর মন গলতো না। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যাওয়াই লাগল।
এরকম ঘটনা শুধু একটি নয়। বরং অনেক। বর্তমানে এই অ্যাপ’স বন্ধ থাকায় ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজের নেতৃত্বে বাদল আবার চাঙ্গা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশেষ কায়দায় আসা ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ, বাদল সিন্ডিকেটকে আসস্ত করছে যে বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনকে ম্যানেজ করে এই অ্যাপটি আবার চালু করবে।
বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন ঢামেকে আসার পর অনেক কিছুই অদল বদল হয়েছে, খাদ্য চিকিৎসা পরিছন্নতা সবই কিছুটা হলেও বদলেছে। বিশেষ করে অ্যাপ’স বন্ধ হওয়ায় রোগিদেরকে শোষন করা কমেছে। কিছুটা হলেও দালাল চক্র কমেছে কিন্তু তারপরও ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ দালালদেরকে ঢামেক থেকে রোগি দিচ্ছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিশেষ কায়দায় আসা ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ এর বদলি হলে ঢামেকে আরো স্বস্তি আসবে বলে সাধারণ রোগিরা মনে করেন।
এবিষয়ে বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন’এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বে-সরকারি এ্যাম্বুলেন্স ঢামেকের মধ্যে কথিত অ্যাপ’স এর মাধ্যমে ভাড়ার জন্য একটি অফিস খুলেছিল সেইটি আমি বন্ধ করে দিয়েছি। এই ধরনের কনো অফিস ঢামেকের মধ্যে আর খুলতে দেয়া হবে না।
দেশবার্তা/জেএ