সিলেট টেস্টে হতাশার একটি দিন পার করেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচের চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাত্র তিনটি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন বোলাররা। অন্যদিকে এদিন উইন্ডিজ তুলেছে ৩৩৮ রান। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান। ফলে ৩১৫ রানের লিড পেয়েছে সফরকারীরা।
প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে গতকাল পড়ন্ত বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিবীয়রা ৭ রানে দিন শেষ করে। সেখান থেকেই রোববার চতুর্থ দিন শুরু হয়। শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন দুই ক্যারিবীয় ওপেনার। দুজন মিলে গড়েন ৮৫ রানের জুটি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশি পেসাররা গতি ও সুইংয়ের ঝড় তুললেও দ্বিতীয় ইনিংসে পাত্তা দেননি উইন্ডিজ ব্যাটাররা।
তবে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাট করা সফরকারীদের দুবার ধাক্কা দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
তাইজুল ইসলামের হাত ধরেই দিন প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৩৬ রান করে ফেরেন জশুয়া ডা সিলভা। এতে ভাঙে সফরকারীদের ওপেনিং জুটি। অবশ্য ততক্ষণে তারা ৫৫ রানের লিড নিয়ে ফেলে। ওপেনিং সঙ্গী বিদায় নিলেও টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ ফিফটি পূর্ণ করেন ব্রেন্ডন কিং।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিল। ৩৪ রানের সেই জুটি ভেঙে ব্রেকথ্রু এনে দেন মিরাজ। ৬১ রান করা কিংকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। সামনের পায়ে এগিয়ে ডিফেন্স করতে গিয়ে বল কিংয়ের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে স্লিপে চলে যায়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে ওই উইকেটই কিছুটা স্বস্তি এনে দেয় বাংলাদেশকে।
তৃতীয় উইকেট জুটিটি আরও বড় হয়। কেভিন উইকহ্যামকে নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের রীতিমতো শাসন করে যান কাভেম হজ। এ সময় দুজন মিলে গড়েন ১৫৫ রানের জুটি, যার ফলে বড় হতে থাকে লিড। ফিফটি পূরণের পর ৭৮ রানে থামেন উইকহ্যাম। তাকে বোল্ড আউট করেন তাইজুল ইসলাম।
দিনের শেষ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট ফেলতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। আমির জাঙ্গোকে সঙ্গে নিয়ে ৬১ রানের অপ্রতিরোধ্য জুটি গড়েন হজ। এর মাঝেই সেঞ্চুরিও তুলে নেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। দিন শেষে ১৪০ রানে কাভেম হজ ও ২০ রানে আমির জাঙ্গো অপরাজিত রয়েছেন।
চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেন তাইজুল ইসলাম। আর একটি উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ।
দেশবার্তা/একে