নওগাঁর ঐতিহাসিক জাতীয় পর্যটন বৌদ্ধ বিহারসহ জেলার আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। ঈদ উপলক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঈদের দিন হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হলেও পরদিন থেকে প্রচণ্ড রোদ ও গরম ঈদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। প্রকৃতির এই বৈরিতাকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন।
জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ঐতিহাসিক বৌদ্ধ বিহার (সোমপুর বিহার), ধামইরহাট উপজেলার আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যান, সাপাহার উপজেলার দিবরদীঘি, আত্রাই উপজেলার পতিসর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়ি, মান্দা উপজেলার কুসুম্বা জামে মসজিদ এবং ঐতিহাসিক বলিহার রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া জেলা সদরের শিশু পার্ক, আবদুল জলিল পার্ক, নিয়ামতপুর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা তালতলী, মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মিনি পার্ক এবং শহরের জিয়া পার্কেও হাজার হাজার দর্শনার্থীর ঢল নামে। ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদের দিন থেকে ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) দুপুর পর্যন্ত এসব পর্যটন কেন্দ্রে আগত দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের আনন্দ বাড়াতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আলোকসজ্জার পাশাপাশি গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মেলায় নাগরদোলাসহ বিভিন্ন রকমারি দোকানপাট বসানো হয়েছে, যা বিনোদনপ্রেমীদের আকর্ষণ করেছে। এবছর ঈদের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বাড়তি আনন্দের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে আগত দর্শনার্থী ঢাকায় কর্মরত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মিরাজ ইসলাম বলেন, এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ভালো এবং পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি শহরের বাসিন্দা সরকারি চাকরিজীবী তাপসী রানী পাল জানান, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তিনি পরিবারসহ এখানে বেড়াতে এসেছেন।
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. ফজলুল করিম বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় আগের বছরের তুলনায় এ বছর দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
অন্যদিকে, আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে আগত রাজশাহীর একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। দিঘীর ওপর পূর্ব-পশ্চিম দিকে একটি লোহার সরু সেতু, পানির ফোয়ারা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা জরুরি।
প্রতিনিধি/আরএইচ