মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।
সোমবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিবৃতির বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ সোমবার ‘আমেরিকান-জায়োনিস্ট’ শত্রুদের এক সন্ত্রাসী হামলায় মাজিদ খাদেমি ‘শহীদ’ হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও গোয়েন্দা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অবদান ছিল। বিশেষ করে বিদেশি গোয়েন্দাদের অনুপ্রবেশ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত প্রতিহত করতে তিনি দীর্ঘকাল ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় উসকানিবিহীন বিমান হামলা শুরু করে মিত্র এই দুই দেশ।
জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত রোববার ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় একটি আবাসিক ভবনে ইরানের ভারী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে ভবনটির অর্ধেক অংশ ধসে পড়ে। এতে অন্তত দুজন নিহত ও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাজধানী তেল আবিবসহ মধ্যাঞ্চলের অন্তত ১৫টি স্থানে গতকাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে। হাইফা শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি ইরান ও হিজবুল্লাহর প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় ওই এলাকায় এখনো উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
দেশবার্তা/একে