দেশের সিএনজি খাতকে ‘চরম সংকটে’ উল্লেখ করে অবিলম্বে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটি জানিয়েছে, চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকট ও দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া উপেক্ষিত হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আগামী ৩০ জুলাইয়ের প্রতীকী ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও দাবি পূরণ না হলে ২৩ আগস্ট থেকে সারাদেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের উদ্যোগে দেশে সিএনজি খাতের বিকাশ শুরু হয়। এরপর সরকারি উৎসাহে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে পাঁচ শতাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রায় ১০ লাখ যানবাহনে সিএনজি ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বায়ুদূষণ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এ খাত।
সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে তরল জ্বালানির সংকট দেখা দিলেও সিএনজি সরবরাহ অব্যাহত থাকায় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ৩ জুন বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণার পর থেকেই সিএনজি স্টেশন মালিকরা আর্থিকভাবে আরও চাপে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ৬ জুন ও ২১ জুলাই দুটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংগঠনটি জানায়, ২৩ জুলাই পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি মালিকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
তবে পেট্রোবাংলা কেবল আগের মতো আশ্বাস দিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান বা প্রস্তাব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন নেতারা।
তারা আরও বলেন, ২০১৩ ও ২০১৭ সালে জ্বালানি বিভাগ গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশেও সিএনজি খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ও ৮ জুন জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ধারাবাহিক লোকসানের কারণে অনেক স্টেশন মালিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য, সিএনজি স্টেশন মালিকদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।
এ অবস্থায় ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রতীকীভাবে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একাংশে অগ্নিকাণ্ডের কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহে সৃষ্ট সংকট বিবেচনায় সরকারকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে ওই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এর মধ্যে যদি তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক সমাধান না হয়, তাহলে ২৩ আগস্ট থেকে সারাদেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দেশবার্তা/একে