বাইক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশে সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন

2026-08-08T13:12:35+06:00
2026-08-08T13:12:35+06:00
রোববার ● ৯ আগস্ট ২০২৬,
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

রোববার ● ৯ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
জাতীয়
বাইক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে ১৫ হাজারের বেশি প্রাণহানি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:১২ পিএম 
প্রতীকী ছবি
দেশে সাড়ে ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬৫টি বাইক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জেনেছে, ৩ হাজার ৫৪৮টি দুর্ঘটনায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে, ৫ হাজার ৪৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। এছাড়া ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ৬ হাজার ৩১৪টি এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার জন্য ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী, ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনায় বাসের চালক দায়ী, পণ্যবাহী যানবাহন দায়ী (ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ইত্যাদি) ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ ঘটনায়, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ দায়ী ২ দশমিক ৭২ শতাংশ ঘটনায়, থ্রি-হুইলার দায়ী ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ ঘটনায়, বাইসাইকেল ও রিকশা দায়ী দশমিক ৭৬ শতাংশ ঘটনায় এবং ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য পথচারী দায়ী।

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ৪ হাজার ৭৭৩টি, আঞ্চলিক সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি, গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি এবং শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল, যার বড় অংশই চালায় কিশোর-যুবকরা। তাদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে।

মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা-ভঙ্গি কিশোর যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে উৎসাহিত করছে বলে মনে করছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

“তারা গতির মধ্যে রোমাঞ্চ অনুভব করে। ফলে বাইক চালকরা নিজে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং পথচারীসহ অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীদের আক্রান্ত করছে।”

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের বেশিরভাগই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তারাও বেপরোয়া যানবাহন চালিয়ে মোটরসাইকেলে চাপা-ধাক্কা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশ ১৩ থেকে ৩৫ বছর বয়সি জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়া এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন।

এ কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে বর্ণনা করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করা। মানসম্পন্ন হেলমেট—দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমায়।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে আরও কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে—

> কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো;

> ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা;

> রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি;

> ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ;

> সচেতনতামূলক কর্মসূচি না থাকা;

> ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামো;

>প্রযুক্তির ব্যবহার ও নজরদারীর অভাব;

> সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি;

> অসহনীয় যানজট।

দুর্ঘটনা রোধে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে—মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার করা, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা, বিটিআরসির মাধ্যমে সোশা মিডিয়ায় নিরাপত্তামূলক প্রচারণা চালানো, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষাভঙ্গি পরিবর্তন করা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালু করা।

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু
হাসিনার নির্দেশে গুম করা হয়েছিল সালাহউদ্দিন আহমদকে: তদন্ত সংস্থা
চুরির অপবাদে দুই বোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২
পিউরো পেস্ট্রি অ্যান্ড বেকারির ১৬তম আউটলেট উদ্বোধন
১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৯টি ক্লাব বদল

সর্বাধিক পঠিত 

ডিসি পদ পেতে ৬৯ কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার পিরোজপুর জেলা কমিটি অনুমোদন
শুরুতে ১২০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন মারিয়া নূর
নাটোরে আবাসন ও চিকিৎসাসহ ট্যুরিজম হাব তৈরি করা হবে
সিলেটে বাস দুর্ঘটনায় বাউল শিল্পী পেহেলী ভৈরবীর মৃত্যু
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]