শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুই বোনকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন, জুতার মালা পরানো এবং এক বোনের চুল কেটে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ওই দুই বোন ও তাদের ছোট ভাইকে একটি ঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা।
নির্যাতনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে শুক্রবার নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ তৎপর হয়। ওই দিন রাতেই নির্যাতিতাদের মা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় স্থানীয় আবুল মোল্যার ছেলে মূল অভিযুক্ত মনির মোল্যাসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আফসানা সরদার (৫০) ও মো. আমির (৩০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত মনির মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে বড় বোনকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার দিন ওই তরুণী তাঁর ছোট ভাই ও বোনকে নিয়ে দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে মনির তাঁকে কুপ্রস্তাব দেয়। এর কড়া প্রতিবাদ জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে মনির কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে তিন ভাই-বোনকে একটি ঘরে আটকে রেখে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে দুই বোনকে টেনে-হিঁচড়ে উঠানে এনে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে গাছে বেঁধে রেখে বড় বোনের চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
নিজের ওপর হওয়া সেই নির্মমতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, মনিরের কুপ্রস্তাবের প্রতিবাদ করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাই-বোনকে আটকে রেখে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে আমাদের গাছে বেঁধে মারধর করা হয়, আমার চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। ওরা নির্যাতনের ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ায় এখন আমি আর কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি এই অপরাধীদের কঠিন শাস্তি চাই।
নির্যাতনের শিকার মেয়েদের মা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কীভাবে মনির ও তার পরিবারের লোকেরা আমার দুই মেয়েকে গাছে বেঁধে পশুপাখির মতো পিটিয়েছে। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি- দোষীদের যেন কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকে অন্য প্রধান আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবারই তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে মামলা দায়েরের পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দেশবার্তা/একে