“মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, দেশকে বাঁচাও”, “মাদক ব্যবসা বন্ধ কর”, “যুবসমাজ রক্ষা করো” এবং “মাদকমুক্ত জীবন, সুস্থ দেহ সুন্দর মন”— এসব স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার বরুড়ায় মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নে বরুড়া থানার আয়োজনে এ র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি আড্ডা উত্তর বাজার থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ রোড চৌরাস্তা মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে শেষ হয়।
র্যালি-পরবর্তী সমাবেশে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক বলেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার ১৯৩টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর অংশ হিসেবে বরুড়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আজ আড্ডা ইউনিয়ন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “আপনাদের সমাজে যারা মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করব। আমরা পর্যায়ক্রমে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সতর্ক করে বলতে চাই, যারা মাদকসেবী আছেন তারা মাদক থেকে ফিরে আসুন। নয়তো আগামী ১৮ তারিখ থেকে আমাদের সরাসরি অভিযান চলবে এবং আমরা আইনের কঠোরতার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার।
সমাবেশে বক্তব্য দেন আড্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাদল, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শরীফ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্বাহী সদস্য নাসির হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মহিবুল্লাহ মফু, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দিদার হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ও মাহবুব আলম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক ব্যবসা ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন।
এ সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ