কঠোর অধ্যবসায় মেধা দিয়ে কুলির ছেলে আরাফাত দারিদ্রতাকে জয় করেছে। জয়পুরহাটের মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তার এ সাফল্যে শিক্ষক সহপাঠি ও প্রতিবেশিরা সকলেই খুশি। আরাফাতের ইচ্ছে সে পড়ালেখা করে বড় হতে চায়।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগর গ্রামের কুলি শ্রমিক আবু মুসা ও গৃহিনী আর্জিনা বেগমের একমাত্র ছেলে আরাফাত ইসলাম। বাবা আবু মুসা সংসারের অভাব মেটাতে বাজারে কুলিগিরি করেন। আর মা আর্জিনা বেগম গৃহ সামলিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্বাস্থ্যতথ্য সরবরাহের কাজ করেন স্থানীয় ব্র্যাক অফিসে। দুজনের অক্লান্ত পরিশ্রমের সেই সামান্য আয় দিয়েই কোন রকমে বেঁচে থাকলেও ছেলের পড়ালেখার খরচ নিয়ে প্রায়ই হিমশিম অবস্থা তাদের। ছেলের সফল ফলাফলে প্রশংসিত হলেও উচ্চ শিক্ষায় খরচ জোগানোর মত সামর্থ তাদের নেই।
আরাফাত বলেন,‘বাবা-মা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন । আমিও কষ্ট করেই এ পর্যন্ত পড়ালেখা করে আসছি। স্কুলের শিক্ষকদেরও সহযোগিতা পেয়েছি। কিন্তু এখন তো কলেজে পড়ালেখা করতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন। এখন সহযোগিতা কে করবে। এসএসসিতে টিউশনির টাকা দিতে পারিনি। তারপরও পড়া বন্ধ করেননি শিক্ষকরা। তাদের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা অর্জনে কে সহযোগিতা করবে আমাদের মত হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের।
আরাফাতের বাবা আবু মুসা বলেন,‘সারাদিন কাজের ওপর থাকতে হয়। একদিন কাজ না করলে পরিবার নিয়ে অনাহারে থাকতে হয়। এ অবস্থায় ছেলের পড়ালেখার খরচ আমি কিভাবে দিব। আমারতো সেই সামর্থ্য নেই।
মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন,আমাদের সাধ্যমত হতদরিদ্রদের লেখাপড়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেছি। এবার আমাদের স্কুল থেকে ৫ জন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনই হতদরিদ্র। বিত্তবানদের পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এইসব শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রতিনিধি/ জেএ