ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎকারী এক জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা শিরিন আক্তার ওরফে সিনথিয়া ওরফে ফাহমিদা ইয়াদকে খুঁজছে পুলিশ। রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।
ভুক্তভোগীদের দায়ের করা মামলায় ঢাকায় ও মুন্সিগঞ্জে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি হলেও এখনো অধরা রয়েছেন সিনথিয়াসহ চক্রের মূল অভিযুক্তরা।
প্রতারণার শিকার টাঙ্গাইলের লোহান হোসেন তালুকদার নামে এক ভুক্তভোগী সম্প্রতি ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- প্রতারণায় ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম লাইনার স্টুডেন্ট অ্যান্ড স্কিল মাইগ্রেশন কনসালটেন্সি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ বিন নাসির, চেয়ারম্যান ইউসুফ বিন নাসির জনি, সিইও শিরিন আক্তার ওরফে সিনথিয়া, ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম, পরিচালক তৌসিফ, পরিচালক সামির এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লোহান হোসেন তালুকদারকে গ্রিস ও সাইপ্রাসে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। সাইপ্রাসে থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিখিত চুক্তিও করা হয়। পরবর্তীতে ভিসা প্রসেসিং ও অন্যান্য খরচের কথা বলে বিভিন্ন দফায় টাকা নেওয়া হলেও তাকে একটি ভুয়া ভিসা দেওয়া হয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ে ধরা পড়লে তা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা সমঝোতা বৈঠকের প্রস্তাব দেয়।
তবে ওই বৈঠকেই সিনথিয়াসহ চক্রের সদস্যরা বাদীকে প্রাণনাশ ও গুম করার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় উত্তরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করায় গত ৯ জুন লোহান হোসেন তালুকদার আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজের আসল পরিচয় আড়াল করতে ঘন ঘন নাম পরিবর্তন করতেন চক্রের মূল হোতা সিনথিয়া। মুন্সিগঞ্জেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছেন রমজান শেখ নামে অপর এক ভুক্তভোগী। পরে অনলাইনের মাধ্যমে পুলিশ তার প্রকৃত নাম ‘সিনথিয়া ওরফে ফাহমিদা ইয়াদ’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
মুন্সিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান এবং ঢাকার আদালত পৃথক মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
বর্তমানে মুন্সিগঞ্জে দায়ের করা মামলায় চক্রের দুই সদস্য কারাগারে থাকলেও মূল হোতাসহ বাকিরা এখনো পলাতক।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ২ জন ব্যতীত পলাতক অন্য সদস্যদের ধরতে মুন্সিগঞ্জ ডিবি পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতারক সিনথিয়া ও তার চক্রের বিষয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলে পুরো চক্রটিকে উন্মোচন করা যাবে।
দেশবার্তা/কেএ/একে