ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’ ঘিরে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরির নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহ। তিনি বলেন, শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামো থেকে দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ, শিলিগুড়িকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এদিন শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।
এ সময় দেওয়া বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, শিলিগুড়ি করিডর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিলিগুড়ি করিডরকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর প্রায় ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের থেকে অনুরোধ সত্ত্বেও জমি পাওয়া যায়নি।
কিন্তু নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজ্য সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ ও এসএসবি-র জমিজট কাটিয়ে ১ হাজার ১২৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন। এমনকি সকালের নাস্তার আলোচনার সময় বাকি থাকা ২৯ একর জমির অনুমোদনও তৎক্ষণাৎ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অমিত শাহ আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পাশাপাশি অঞ্চলের যাতায়াত, পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৬৮৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্ত গ্রামগুলোকে কেবল সড়কপথেই নয়, মূল ভূখণ্ডের হৃদয়জুড়ে যুক্ত করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনকে বিশ্বমানের স্টেশনে রূপান্তর করা হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত দিল্লি-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডর চালুর মাধ্যমে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে দিল্লি থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শিলিগুড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানান ভারতের কেন্দ্রী এই মন্ত্রী।
দেশবার্তা/এমআর