গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে পুনরায় কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী (মুসা)। আ' লীগ সরকারের আমলে টানা দুই মেয়াদে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করা, নাগরিক সেবার মান বাড়ানো এবং ওয়ার্ডকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রতিবছর আলেমদের হজ্ব পালনে সহায়তা করে আসছেন বলে জানান।
মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী (মূসা) গাজীপুর মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯০-এর দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, চৌধুরী পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে এলেও মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী (মুসা) নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দলে অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি বাসন মেট্রোথানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, সড়কের বেহাল দশা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডটির অন্যতম প্রধান সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমাদের কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত যে কারণে বৃষ্টি মৌসমে জলাবদ্ধতা বেশি দেখা যায়। তবে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। মূসা চৌধুরী যদি এবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান আরও বাড়ানোর দাবি তাঁদের।
এবিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী (মুসা) দৈনিক দেশবার্তা প্রতিবেদককে জানান, আমার লক্ষ্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নাগরিক বান্ধব ১৬ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে তোলা। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহযোগিতা চান তিনি।
নিজের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ বছর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। অনেক কাজ পূর্ণাঙ্গ ভাবে শেষ করতে পারিনি। এর মধ্যে চার বছর কাউন্সিলর ছিলাম না, বর্তমানেও কাউন্সিলর নেই। তারপরও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নিজ অর্থ ব্যয় করে আমার ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজ ও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করেছি। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের মাধ্যমে নতুন করে ৩৪টি রাস্তা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ কাজের টেন্ডার অনুমোদন হয়েছে।
তিনি বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচিত না হলেও তাঁর পরিবার সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছে ও থাকবে। এছাড়া ড্রেন পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ ও সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি ওয়ার্ডে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
নিজের অতীত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমার আচরণ, কথা-বার্তা কিংবা কোনো কাজে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি আন্তরিক ভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’ আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ‘সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে আমি সবসময় পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। অতীতের মতো এবারও আপনারা আপনাদের মূল্যবান ভোট, সমর্থন ও দোয়ার মাধ্যমে আমাকে পুনরায় সেবা করার সুযোগ দেবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর হিসেবে মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী (মূসা) গাজীপুরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তবে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা উন্নয়ন, নাগরিকসেবা ও নিরাপদ পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই করতে চান।
দেশ বার্তা/ জেএ