সিলেট নগরীর খাসদবীর এলাকা থেকে প্রায় ৬ ফুট দীর্ঘ ও ৮ কেজি ওজনের একটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিনে নগরীর পাশের সালুটিকর এলাকা থেকে প্রায় ৫ ফুট লম্বা একটি নির্বিষ দুধরাজ সাপও উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, খাদ্যের সন্ধানে পার্শ্ববর্তী চা-বাগান থেকে অজগরটি লোকালয়ে চলে আসে। কয়েক দিন আগে সাপটি নজরে এলে স্থানীয়রা ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সংগঠনের সিলেট প্রতিনিধি নোমান হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকাটি ঘন ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত থাকায় প্রথমে সাপটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন তিনি।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ও স্থানীয় রাজনীতিবিদ হুমায়ূন আহম্মেদ মাসুকের তত্ত্বাবধানে তিন দিন ধরে এলাকা পরিষ্কার করা হয়। গতকাল বুধবার পরিষ্কার কার্যক্রম চলাকালে অজগরটির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে নোমান হোসাইন সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
অপরদিকে, জেলার সালুটিকর ছালিয়া এলাকার একটি বসতবাড়ির গোয়ালঘরের পাশ থেকে প্রায় ৫ ফুট লম্বা তামাটে মাথার একটি দুধরাজ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সাপটি গোয়ালঘরের পাশের মাটির গর্তে অবস্থান করছিল। এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম সাপটি দেখতে পেয়ে উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন। পরে সংগঠনের সিলেট প্রতিনিধি নোমান হোসাইন ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধার অভিযান শেষে স্থানীয়দের মধ্যে সাপ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে করণীয়, নির্বিষ সাপের বৈশিষ্ট্য এবং সাপকে ঘিরে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দুধরাজ সাপ নির্বিষ এবং পরিবেশের জন্য উপকারী। তাই এ ধরনের সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞদের খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ ব্যাপারে ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’ এর সিলেট জেলা প্রতিনিধি নোমান হোসাইন জানান, উদ্ধার করা অজগরটি সুস্থ রয়েছে। বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুতই এটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে। একই দিনে সালুটিকর এলাকা থেকে একটি দুধরাজ সাপও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বনভূমি কমে যাওয়ায় অনেক সময় বন্যপ্রাণী খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সাপকে আঘাত না করে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, সিলেট অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অজগর উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে প্রায় ৬-৭ মাস আগে সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকা থেকে প্রায় ৮ ফুট লম্বা ও ৩০ কেজি ওজনের একটি অজগর উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছিল।
প্রতিনিধি/একে