রাঙামাটির প্রতীকখ্যাত ঝুলন্ত সেতু টানা ছয় দিন কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে ডুবে থাকার পর অবশেষে ভেসে উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা।
তিনি বলেন, “শুক্রবার বিকেলের দিকে ঝুলন্ত সেতু থেকে পানি সরে গেছে। আমরা সেতুটি সংস্কারের কাজ করছি। আপাতত আগত পর্যটকদের কাছ থেকে ঝুলন্ত সেতুতে চলাচলের জন্য কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। পানি যে সরে গেছে, সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নোটিশ দিলে আমরা ফের পর্যটকদের কাছ থেকে সেতুতে চলাচলের জন্য টিকিটের টাকা নেব।”
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৯ আগস্ট ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে যায়। এ সময় জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। নিরাপত্তার কারণে ওই দিন দুপুর থেকে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
এরপর ওই দিন রাত ৮টায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। এখনো এ পানি ছাড়া অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ নয়নাভিরাম ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করে। দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন এ সেতুতে জলপথ ও স্থলপথ—উভয় পথেই সহজে যাওয়া যায়। বর্তমানে সেতুটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ