পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ইরানকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর মতে, ইরানকে এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ করা গেলে উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হতে পারে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সোমবার মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে এ প্রস্তাবের কথা জানান। তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
ল্যাভরভ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব রাশিয়া দুই দশকেরও বেশি আগে দিয়েছিল। ওই কাঠামোয় আরব দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই জটিল। তারপরও এসব দেশের মধ্যে আলোচনা, পারস্পরিক অভিযোগ নিয়ে মতবিনিময় এবং আস্থা তৈরির উদ্যোগে সহায়তা করে আসছে মস্কো।
ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ল্যাভরভ। তাঁর মতে, চীনের মধ্যস্থতা এবং রাশিয়ার সক্রিয় উৎসাহে কয়েক বছর আগে তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।
সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ল্যাভরভ বলেন, ভবিষ্যতে মক্কা চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোকেও যুক্ত করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মিসর ও আলজেরিয়ার মতো দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর মতে, ইরান কী শর্তে এই নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো গেলে সেটিই রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়নের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে এই উদ্যোগে রাশিয়া নেতৃত্ব দেওয়ার কোনো চেষ্টা করবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন ল্যাভরভ। তাঁর বক্তব্য, লক্ষ্য হওয়া উচিত আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
দেশবার্তা/এমআর