ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে নোঙর করা তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। একই সঙ্গে এসব জাহাজে থাকা নাবিকদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।
বিবৃতিতে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। কয়েকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাব হিসেবেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের অভিযোগ, কুয়েত ও বাহরাইন তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীকে অবস্থানের সুযোগ দিয়েছে। পাশাপাশি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলায়ও দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ছোট ইরানি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। হামলার সময় জাহাজটি নোঙর এলাকায় অবস্থান করছিল। এতে কোনো হতাহতের খবর না মিললেও নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আইআরআইবি আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের জাস্ক উপকূলের কাছেও আরেকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহনপথ। এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার একটি কাঠামো নির্ধারণের কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা ও নতুন হুমকির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
দেশবার্তা/আরএইচ