| চলমান বার্তা: |

সিআইএ প্রকাশিত নথিগুলোতে দেখা যায়, ৯/১১ হামলার আগে আল-কায়েদার হুমকি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে হামলার ব্যাপকতা ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি যথাযথভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি।
১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে দেওয়া একটি গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ের নিচের দিকে বলা হয়েছিল, বিন লাদেন-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী বিস্ফোরকভর্তি উড়োজাহাজ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহরে হামলা চালাতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত ৯/১১ হামলায় কোনো বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়নি। সেদিন চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করা হয়। এর মধ্যে দুটি নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এবং একটি ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে আঘাত হানে। চতুর্থ উড়োজাহাজটি ক্যাপিটল ভবনে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হলেও যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে উড়োজাহাজটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, বছরের পর বছর ধরে বিন লাদেনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। এসব তথ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা, ওয়াশিংটনের একটি শপিং মলে হামলা, পারমাণবিক বোমা তৈরির উপকরণ সংগ্রহ, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার এবং একজন মার্কিন নাগরিককে অপহরণের পরিকল্পনার কথাও ছিল। ওই নাগরিকের নাম নথিতে মুছে দেওয়া হয়েছে।
তবে নথি প্রকাশের ফলে ৯/১১ হামলার আগে মার্কিন সরকার কী জানত বা কেন হামলা ঠেকানো যায়নি—এ বিষয়ে গোয়েন্দা ইতিহাসবিদদের বিদ্যমান ধারণায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০০৪ সালে ৯/১১ হামলা তদন্তে গঠিত জাতীয় কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরপর দুই প্রেসিডেন্টের প্রশাসনকেই আল-কায়েদার হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু হুমকির ব্যাপকতা ও জরুরি পরিস্থিতি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে বিচ্ছিন্ন তথ্যগুলো একত্র করে হুমকির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা যায়নি।
গবেষকদের মতে, ওই সময় সিআইএও একটি পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সংস্থাটির অগ্রাধিকার ও কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। বিন লাদেনকে অনুসরণকারী সিআইএর ‘অ্যালেক স্টেশন’ ইউনিটও তখন তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল।
অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গোয়েন্দা সংস্থাবিষয়ক ইতিহাসবিদ জেফরি রোগ বলেন, কোনো হুমকি নিয়ে সংস্থার একটি অংশ যতই সতর্কবার্তা দিক না কেন, সেটি শেষ পর্যন্ত একটি বড় সংস্থার সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যেই পড়ে।
তারপরও প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফিংয়ের এসব নথি প্রকাশকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা ব্রিফিং সিআইএর সবচেয়ে সংবেদনশীল গোপন নথিগুলোর অন্যতম।
২০০১ সালের ৬ আগস্ট প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে দেওয়া চূড়ান্ত সতর্কবার্তার শিরোনাম ছিল ‘যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিন লাদেন’। এতে বলা হয়েছিল, আল-কায়েদার সদস্যরা ‘বছরের পর বছর’ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা ভ্রমণ করেছে এবং সংগঠনটি এমন একটি সহায়তা কাঠামো বজায় রেখেছে বলে মনে হচ্ছে, যা হামলায় সহায়তা করতে পারে।
তৎকালীন এফবিআইয়ের তথ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে কিছু সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, যা উড়োজাহাজ ছিনতাই বা অন্য ধরনের হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। নিউইয়র্কে সরকারি ভবনগুলোতে নজরদারির তথ্যও এর মধ্যে ছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রে বিন লাদেন-সংশ্লিষ্ট ৭০টি পূর্ণাঙ্গ মাঠপর্যায়ের তদন্ত চলছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, আরও চাঞ্চল্যকর হুমকি-সংক্রান্ত কিছু তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের একটি তথ্যও ছিল, যাতে বলা হয়েছিল বিন লাদেন একটি মার্কিন উড়োজাহাজ ছিনতাই করতে চেয়েছিলেন।
প্রকাশিত নথির সর্বশেষটির তারিখ ২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা। এতে কান্দাহারভিত্তিক এক আরব ব্যক্তির বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। তার দাবি, হামলার পরিকল্পনা দুই বছর ধরে করা হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল ‘ক্রোধের সূচনা’।
দেশবার্তা/এমআর
