সিলেটের অন্যতম খনিজ সম্পদ পাথর। পরিবেশগত সমস্যার কারণে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত ১০ বছর ধরে জেলার কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এতে পাথর কোয়ারি এলাকার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হাহাকার চলছে।
এ অবস্থায় পর্যটনকেন্দ্র জাফলংকে সংরক্ষিত রেখে সিলেটের অন্যান্য এলাকায় পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে এগোচ্ছে সরকার। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি পাথর উত্তোলন মৌসুমেই সুখবর আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় সিলেটে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয়জন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিও গঠন করা হয়।’
মন্ত্রী জানান, আদালতের আদেশে সংরক্ষিত জাফলং এলাকাকে অক্ষত রেখে সিলেটের অন্যান্য এলাকায় হস্তচালিত পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে কমিটি নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পাথর উত্তোলন নিয়ে একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সরকার আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটি পাওয়ার পরদিন থেকেই সরকার সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
চলতি মৌসুমেই পাথর উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মামলার বাদীপক্ষ আদালতে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন। একইভাবে সরকারপক্ষও তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই মৌসুমেই পাথর উত্তোলন শুরু হবে।’
সরকারের এ নীতিগত অবস্থানের ফলে জাফলংকে সংরক্ষণ করে সিলেটের অন্যান্য পাথরসমৃদ্ধ এলাকায় সীমিত ও হস্তচালিত পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ