| চলমান বার্তা: |

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছুটা ধাক্কা লাগে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে একটি অজ্ঞাত স্থানে বসবাস করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ঢাকায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক বৈঠক চলছে। এসব বৈঠকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের এজেন্ডা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো রয়েছে।
ঢাকার একাধিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু আরও জানিয়েছে, চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করবেন তারেক রহমান। এরপর অক্টোবর ও নভেম্বরে তাঁর একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যেই নভেম্বরে উপযুক্ত সময়ে নয়াদিল্লি সফরের সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ওই সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ঢাকা উপযুক্ত সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দেবে।
এর আগে এক প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু জানিয়েছিল, চলতি মাসের শুরুতে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি কর্মসূচি বাতিলের ঘটনাকে বিএনপি সরকার ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে।
সম্প্রতি ভারতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। এ ঘটনার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ প্রকাশ করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনা এবং তাঁর শীর্ষ কয়েকজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
ঢাকার বর্তমান প্রশাসনের একাধিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু দাবি করেছে, লন্ডনে অবস্থানকালেও তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পর ভারতের মনোভাব বোঝার জন্য তারেক রহমান দেশটিতে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের দুই মাস আগে বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন। দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগে ২০১৮ সালে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি সফর করেছিল। ওই দলে ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির।
দেশবার্তা/এমআর
