নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও বলিহার রাজবাড়ী পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জেলার সদর উপজেলার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন ঐতিহাসিক বলিহার রাজবাড়ী পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় নওগাঁ-৪৯ মান্দা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু ফুলেল তোড়া দিয়ে সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারকে শুভেচ্ছা জানান।
বলিহার রাজবাড়ী চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয়রা সহকারী হাইকমিশনার ও সংসদ সদস্যকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাঁরা ঐতিহাসিক রাজবাড়ীর বিভিন্ন অংশ ও প্রাচীন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সেখানে মন্দির কমিটিসহ স্থানীয়রা বলিহার রাজবাড়ী ও মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কারের দাবি জানান। এ সময় রাজবাড়ীটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সার্বিক উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ‘বলিহার রাজবাড়ী কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। এই প্রত্নসম্পদ রক্ষা ও চত্বরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
এ সময় বলিহার রাজবাড়ির রাজেশ্বরী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র প্রামাণিক এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলার বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘর পরিদর্শনে যান ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার। ৭০ দশমিক ৩১ একর আয়তনের ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি।
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মোহাম্মদ ফজলুল করিম আরজু জানান, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে এসে জাদুঘরসহ সবকিছু পরিদর্শন করেন এবং পরিবার নিয়ে আবারও আসতে চেয়েছেন। বিকেল ৫টার দিকে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি পরিদর্শন বইয়ে ইতিবাচক মন্তব্য লিখেছেন।
ফজলুল করিম আরজু আরও বলেন, বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিহার পাহাড়পুরের আদি নাম সোমপুর বিহার। এটি মূলত পাল রাজত্বের রাজধানী ও সে সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখানে সারা বছর দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনি উপস্থিত পর্যটকদের কথা শুনেছেন এবং খুশি হয়েছেন বলে কাস্টোডিয়ান জানান।
প্রতিনিধি/আরএইচ