লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিনদাউগাস সিংকেভিসিয়ুস বলেছেন, রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। হামলা হলে তাঁর দেশ আত্মসমর্পণ করবে না। পাল্টা লড়াই করবে।
দেশটির আকাশসীমায় সম্প্রতি একটি ড্রোন ভূপাতিত করেন ন্যাটোর যুদ্ধবিমানের পাইলটরা। সেটির উৎস এখনো নিশ্চিত নয়। তবে লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস বলেছেন, এটি বেলারুশের দিক থেকে এসেছিল। বেলারুশ লিথুয়ানিয়ার প্রতিবেশী ও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।
ড্রোন হামলাটির কয়েকদিনের মাথায় মিনদাউগাস সিংকেভিসিয়ুস নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানালেন। বিবিসি নিউজনাইটে তিনি বলেন, রাশিয়ার কারণে লিথুয়ানিয়ার মানুষ নিয়মিত হুমকির মধ্যে থাকার অনুভূতি পাচ্ছেন। এখানে হামলা হলে ‘আমরা পাল্টা লড়াই করব।’ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।
ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেন লিথুয়ানিয়ার সেনারা। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। ছবি: এএফপি
ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করেন লিথুয়ানিয়ার সেনারা। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। ছবি: এএফপি
প্রস্তুতির উদাহরণ হিসেবে লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রবীণ নাগরিকদের শহর থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং যানজট এড়িয়ে চলার বিষয়গুলো আছে। তাঁর দেশ রুশ সীমান্তবর্তী হওয়ায় হুমকিরও অনেক কাছে আছে।
ন্যাটোর সদস্য দেশ লিথুয়ানিয়া রুশ ছিটমহল কালিনগ্রাদের স্থল সীমান্তের কাছে অবস্থিত। বিবিসিকে সিংকেভিসিয়ুস বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছি। সবগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি আলোচনা করা হচ্ছে না। তবে আমরা সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে আছি। প্রতিদিন না হলেও আমরা এসব হুমকি মোকাবিলা করছি।’
যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ্য করে সিংকেভিসিয়ুস বলেন, প্রতিরক্ষার বিষয়ে দেশটির ‘মানসিকতায় পরিবর্তন’ প্রয়োজন।
সম্প্রতি লিথুয়ানিয়ায় ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা নিয়ে মস্কো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছিলেন, ন্যাটো আবারও আকাশসীমা রক্ষায় নিজেদের প্রস্তুতি দেখিয়েছে। ন্যাটোর প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় আমরা প্রস্তুত।
দেশবার্তা/এমআর